একজন সফল কর্মজীবী নারী

লাইক দিন ও শেয়ার করুন

সালাউদ্দিন:- নারীরা আজ এগিয়ে আসছে । দেশের সামাজিক ,রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীদের এখন রয়েছে ব্যাপক অবদান । পুরুষের পাশাপাশি নারীদের এগিয়ে আসায় তৈরি হয়েছে নতুন নতুন অর্থনৈতিক উন্নয়নের গল্প । পারিবরিক অর্থনীতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণে । কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণে দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন । প্রায় সকল পেশায় এখন নারীদের অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় । নারী পুরুষের সমতায়নের জন্য নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যেগ ।

কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহনের ফলে পারিবারিক অর্থনৈতিক বাধা অতিক্রম করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে গেট কিপার হিসাবে কর্মরত ফাতেমা আক্তার । তিনি কাজ করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের গেট কিপার হিসাবে । দেড় বছর থেকে গেট কিপারের দায়িত্ব পালন করছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার সোনাপুর রোডে।  ফাতেমার বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় । ২০ বছর আগে বিয়ে হয় ফাতেমা বেগমের । অভাব অনটনের সংসারে কোনোরকম দিনযাপন হচ্ছিল । অভাবটাই যেন সংসারের সুখে হানা দিয়েছিল । ডিগ্রি পাশ করেছিলেন ফাতেমা বেগম । চাকরির সন্ধানে অনেক চেষ্টার পর যোগ দেন বাংলাদেশ রেলওয়ের গেট কিপার হিসাবে ।প্রথম দিকে চাকরি হওয়ার পর ফাতেমা আত্মীয়-স্বজনের বাধার সম্মুখীন হন । কেউ সেই চাকরিতে যোগদানের জন্য উৎসাহ দেয় নি বরং অনেকেই বাধা দিয়েছিল । সব বাধাকে উপেক্ষা করে ফাতেমার মনোবল দৃঢ় রেখে যোগদান করেন রেলওয়ের চাকরিতে ।একজন নারী হিসাবে গেট কিপার চাকরি করা একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয় । ফাতেমা জানান ,আমি একজন নারি হিসেবে রাস্তায় দাড়িয়ে ট্রেনের গেটম্যানের কাজ করব ।প্রথম দিকে বিষয়টা আমার কাছে একদম খারাফ লাগছিল । লোকে কি বলবে । তাছাড়া নিজের আত্মসম্মানবোধ । আত্মীয়-স্বজনের বাধা ইত্যাদি উপেক্ষা করে আমাকে এখানে আসতে হয়েছে । 

স্বামীর সামান্য আয় দিয়ে ফাতেমা বেগমের পরিবারের ভরণপোষন নিতান্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছিল । তাছাড়া ফাতেমা বেগম একজন শিক্ষিত নারী । নিজের জীবনে কাজ করার প্রবল আগ্রহ ছিল ফাতেমার।  পরিবারে জন্য কিছু করার প্রেরণা ছিল । সেই থেকে তিনি কাজ করার ইচ্ছা নিয়ে চাকরির সন্ধান করতে থাকেন ।২০১৮ সালে বাংলাদের রেলওয়েতে যোগদান করেন ফাতেমা বেগম । ফাতেমা বেগমের স্বামী আর এক মেয়ে এক ছেলে নিয়ে সংসার । মেয়ে খাদিজা বেগম লেখাপড়া করে নবম শ্রেণিতে। ছেলে  সপ্তম শ্রেণিতে ।স্বামির পাশাপাশি এখন ফাতেমা বেগম নিজেও অর্থনৈতিকভাবে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন । ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচের পাশাপাশি এখন স্বাচ্ছন্দে নিজের সংসারে দিনযাপন করছেন । ফাতেমার এগিয়ে আসার ফলে পারিবারিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভবপর হয়েছে ।নারী হিসাবে ফাতেমা বেগমের প্রবল আগ্রহ আর সাহস তার পারিবারিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখে । 

ফাতেমা বেগম আরও জানান ,নারীরা পুরুষের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করলে পারিবারিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি নারীদের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধিপাবে । এজন্য প্রয়োজন নারীদের কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিবেশ এবং সুযোগ তৈরি করা । 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *