কথা রাখলেন কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সফি আহমদ সলমান মহোদয়

লাইক দিন ও শেয়ার করুন

রিয়েল টাইমস ৭১ নিউজ ডেস্ক : কুলাউড়া উপজেলার ০৮ নং রাউৎগাঁও ইউপির তিলাশীজুরা গ্রামের বহুল প্রতিক্ষিত কালভার্টটি নির্মাণ করে দিলেন কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জননেতা অধ্যক্ষ এ.কে.এম সফি আহমদ সলমান মহোদয়।

কিছু কথা লিখতেই হচ্ছে।

পড়ালেখার সুবাধে প্রায় একযুগ সিলেটে ছিলাম, খুব ভালো ছাত্র না হলেও মোটামোটিভাবে একডেমিক পড়ালেখা শেষ করেছি। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়েছিলাম বহুবছর আগে, সিলেট থাকাবস্তায় তালতলা গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম, সেই গ্রুপকে  নেতৃত্ব দিতেন জনাব এডভোকেট নাসির আহমদ সাহেব।কুলাউড়ায় আসার পর ২/১ জন নেতার সাথে পরিচয় হলেও কমফোর্ট ফিল করতে পারতাম না । মূর্খ, অর্ধশিক্ষিত নেতা/ নেতাদের আচরণ আমার ভালো লাগেনি।

কিশোর বয়সে একজন উচ্চ শিক্ষিত, রুচিশীল, সাহসী, প্রজ্ঞাবান সফি আহমদ সলমান মহোদয়ের বীরত্ব গাঁথা ইতিহাস যখন মানুষের মুখে শুনতাম তখন ভালো লাগতো। মনে মনে ভাবতাম এরকম মানুষ বর্তমান সময়ের জন্য খুবই দরকার। মনে হয়ে গেলো পুরোনো দিনের কথা, তখনকার ব্রাহ্মণবাজার ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম খান বাচ্চু সাহেবের হিংগাজিয়া বাজারের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন, আমি উনাকে দেখার জন্য বাজারে গিয়েছিলাম, উনার নাতিদীর্ঘ ভাষণ শুনলাম, ভরাট কন্ঠে সাহসী উচ্চারণ, মনে হলো সত্যিকারের বীর। তার বহুবছর পরে অর্থ্যাৎ সিলেট থেকে কুলাউড়া আসার কিছুদিন পর উনার সাথে পরিচিত হলাম, প্রতিদিন উনার অফিসে যেতাম। কোন কারণে অফিসে যেতে না পারলে ফোন করে খবর নিতেন। 

২০১৪ সালে রোড এক্সিডেন্টের শিকার হয়ে কুলাউড়া হাসপাতালের বেডে নিজেকে আবিস্কার করলাম, খবর পেয়ে প্রিয় নেতা গভীর রাত হাসপাতালে ছুটে গেলেন এবং কিছু ক্রয় করে খাবার জন্য বেশ কিছু টাকাও দিয়ে আসলেন। তার ২ দিন পর  আমাকে দেখতে চলে আসলেন আমার বড়িতে। বিগত পৌরসভা নির্বাচনে উনি মেয়র পদপ্রার্থী ছিলেন, আমার বাড়ি গ্রামে তাই উনাকে ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়নি। নিজ দলের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা দালাল বাটপারদের কারণে সামান্য ভোটে হেরে যান। “আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন” তার বাস্তব প্রমাণ তিনি পৌরসভায় পরাজয় বরণ করেছিলেন ঠিক কিন্তু এখন তিনি পুরো উপজেলার চেয়ারম্যান। আল্লাহ যা কেড়ে নেন তা আরও বড় পরিসরে বান্দাকে ফিরিয়ে দেন, আর আমিও উনাকে জীবনের প্রথম একটি ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে গেলাম। উনাকে আমি একটি ভোট দিতে পেরেছি এটা আমার জন্য অনেক গর্বের।

 

গত জানুয়ারী মাসের মাঝামাঝি এই জায়গার পুরাতন কালভার্টটি ভেঙ্গে যায়, অত্র ইউপি চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল জলিল জামাল সাহেবকে বারবার ফোনে/সরাসরি বলার প্রায় ৫ মাস গত হয়ে যাবার পরও উনার কোন ভূমিকা না থাকায় চরম হতাশ হলাম। ফেব্রুয়ারী মাসে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়কে এই কালভার্টটির কথা শেয়ার করে বলেছিলাম আপনি যদি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে যান তবে আমার এই কালভার্টটি নির্মাণ করে দেবেন, মুচকি হেঁসে সায় দিয়েছিলেন। আল্লাহর মেহেরবাণীতে উনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন। মনের দু:খ সবার সাথে শেয়ার করার জন্য এই কালভার্ট সহ আরও একটি কালভার্টের ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার করতেই ইউপি চেয়ারম্যান সাহেবের গাত্রদাহ হয়ে গেল। শুরু হলো আমার বিরুদ্ধে উনার নানা অপপ্রচার, আমি নাকি কালভার্ট ভাঙ্গার ১০ দিন পরে ফেইসবুকে পোষ্ট দিয়ে দিছি। আমাকে বিশ্রী ভাষায় গালাগালী করে মানুষের কাছে উপস্থাপন আজ অবধি করে যাচ্ছেন, একজন গোল্ড ম্যাডেল প্রাপ্ত দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যানের এমন তীর্যক কথাবার্তা আমাকে শুধু হতাশ করেনি চরমভাবে আহত করেছে। সর্বশেষ কালভার্টটি যখন চলাচলের অনুপোযোগি হয়ে গেল, কাঠ ফেলে কালভার্ট পাড়ি দিতে হতো, সীমাহিন দূর্ভোগে পড়ে আমার প্রাণপ্রিয় নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান সফি আহমদ সলমান মহোদয়ের  সাথে বিষয়টি শেয়ার করলাম, আশা ছিল একটা সমাধান হবে, কিন্ত এতো দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে তা বুঝতে পারিনি। আমার কথাগুলো মনযোগ দিয়ে শুনে বললেন এখন তো রাত, কালকে দিনে এসে উপজেলা প্রকৌশলীকে নিয়ে কালভার্টটি মেপে নিয়ে আসবে। অবাক হলাম উনার রেন্সপন্স দেখে, পরদিন আমি উনার উপজেলার অস্থায়ী অফিসে যেতেই প্রকৌশলীকে ফোন করে বললেন অফিসে আসার জন্য। উনি চলে এলে আমাকে দেখিয়ে বললেন আপনি তার সাথে গিয়ে একটি কালভার্ট মেপে নিয়ে আসেন। এর ৭/৮ দিন পর ১৪/০৬/১৯ ইং শুক্রবারে কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু করালেন, ২১/০৬/১৯ ইং নির্মাণ কাজ শেষ হলো। উনার সময়কার কুলাউড়া উপজেলায় নির্মিত প্রথম কালভার্টটি হলো আমার এলাকার এই কালভার্ট, আর উনার প্রথম নাম ফলকটি লাগলো এই কালভার্টে।

গত ১৯/০৬/১৯ইং বুধবারে উনার প্রতিষ্ঠান শাহজালাল আইডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজে এসে আমার কাছে কালভার্ট নির্মাণের অগ্রগতির খবর জানতে চাইলেন, আমি বললাম কাজ প্রায় শেষ পর্যায়। বললেন “জহির” তোমার স্বপ্ন কি পূরণ হয়েছে ? মুখে কোন কথা বলতে পারিনি তবে মাথা নেড়ে সায় দিয়েছিলাম। আমার স্বপ্ন লিডার সেই দিনই পূরণ হয়েছে, গত ১৮ মার্চ রাতে বিজয়ের মালা গলায় পরে উপজেলা পরিষদের ২য় তলার অস্থায়ী স্টেজে কুলাউড়া উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে হাজার হাজার মানুষের সম্মুখে ভাষণ দিয়েছিলেন সেই সময়টা ছিল স্বপ্ন পূরণের সময়। কুলাউড়ার কিছু রাঘব বোয়ালরা চায়নি আপনি নির্বাচিত হন, না চাইলে কি হবে মহান সৃষ্টিকর্তার হুকুমে কুলাউড়ার মানুষ আপনাকে যে সম্মান দেখিয়েছে ইনশাআল্লাহ এর ধারাবাহিকতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে ।

আপনি আমার আবদার এত কম সময়ে পূরণ করে এলাকাবাসীর কাছে যেভাবে আমার মুখ উজ্জল করেছেন আমি চির কৃতজ্ঞ আপনার কাছে। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা । মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি, আমিন……..

       “চন্দন হয়না বনে বনে, সলমান হয়না জনে জনে”

লেখক – কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান জননেতা অধ্যক্ষ এ.কে.এম সফি আহমদ সলমান মহোদয়ের গুণমুগ্ধ – মো: জহিরুল ইসলাম। সম্পাদক ও প্রকাশক – অনলাইন নিউজ পোর্টাল www.realtimes71.com

  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *