কুলাউড়ায় বিএনপির ত্যাগীদের অবমূল্যায়নে একাংশের পাল্টা সভা

লাইক দিন ও শেয়ার করুন
কুলাউড়া প্রতিনিধি ::  কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়ন বিএনপির কার্যনির্বাহী সভার ডাক দেন দলের নির্বাচিত সভাপতি ও সম্পাদক। একই সময় সভাপতি ও সম্পাদক কর্তৃক স্বেচ্ছাচারিতা, দলের ত্যাগী, হামলা, মামলায় নির্যাতিতদের অবমূল্যায়ন, বহিরাগতদের মূল পদ দেয়ার প্রতিবাদে পাল্টা সভার ডাক দেন বিএনপির অপরাংশ। এসময় বিষয়টি তাৎক্ষনিক সমাধানের জন্য চেষ্টা চালিয়েও ব্যার্থ হন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে বরমচালের ফুলেরতল বাজারে ইউনিয়ন বিএনপি’র কার্যালয়ে সভা করেন বিএনপির একাংশ। একই সময় পাশাপাশি শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসে পাল্টা সভা করেন বিএনপি’র অপরাংশ।

বরমচাল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী আনার উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোক্তাদিরের সঞ্চালনায় কার্যনির্বাহী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মুহিত সবুজ প্রমুখ। সভায় ১ বছর পর ইউনিয়ন বিএনপি’র ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি প্রকাশ করা হয়। তবে এই ৭১ সদস্যের অনেকেই সভায় উপস্থিত ছিলেন না।

এদিকে এই সভা ও ইউনিয়ন বিএনপি’র কমিটি প্রত্যাখ্যান চেয়ে বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি’র সদস্য ইছহাক চৌধুরী ইমরানের সভাপতিত্বে এবং কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জহুর ডেন এর সঞ্চালনায় পাল্টা সভার আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বরমচাল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত খান, বিএনপি নেতা নাছির উদ্দিন বুলু, হেলাল খাঁন, যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক ও বিএনপি নেতা তোফায়েল হোসেন খাঁন জমসেদ, সাহেল খাঁন প্রমুখ।

এবিষয়ে উপজেলা বিএনপির তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক ও বরমচাল বিএনপি নেতা আব্দুল জহুর ডেন জানান, দলের দুঃসময়ে আমরা মাঠে ছিলাম। বিভিন্ন সময় হামলা, মামলার শিকার হয়েছি। তখন কাউকে রাজপথে দেখা যায় নি। বিভিন্ন তড়াই উৎড়াই পার করে বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় আছি। ব্যক্তি কেন্দ্রিক রাজনীতি কোনদিন করিনি। দলের সিদ্ধান্তকে সব সময় স্বাগত জানিয়েছি। এখন আমাদের না জানিয়ে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। অথচ যারা অতীতে জামায়াত শিবিরের রাজনীতি করেছে তাদেরকে ধরে এনে বিএনপি’র কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে। আমরা এই কমিটি প্রত্যাখ্যান চেয়ে জেলা সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে আবেদন করবো।

বরমচাল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ জানান, বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে আমি ও আমার পরিবার একাধিকবার মামলা ও হামলার শিকার হয়েছি। জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান বিভিন্ন সময় এবিষয়ে অবগত আছেন। আমার উপর ওয়ান ইলেভেনের পর প্রায় ১০ টি মামলা হয়েছে। জেল খেঁটেছি। আমরা জাত বিএনপি। অথচ বরমচাল ইউনিয়ন বিএনপি’র কমিটি সম্পর্কে আমি কিছুই জানলাম না। আমরা এই কমিটি প্রত্যাখ্যান চাই।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি’র সদস্য ইছহাক চৌধুরী ইমরান জানান, বিগত জাতীয় নির্বাচনে বরমচাল ইউনিয়ন বিএনপি’র দায়িত্ব পালন করি। এসময় পুলিশী হামলা, মামলার শিকার হয়েছি। তবুও মাঠ ছেড়ে যাইনি। বরমচালে বিএনপির’র একটা অস্বচ্ছ কাউন্সিলে অল্প ভোটে সভাপতি পদে পরাজিত হয়েছি। অথচ তারা আমাদেরকে না জানিয়ে, আমাদের অবমূল্যায়ন করে কমিটি গঠন করেছেন। যা আমরা প্রত্যাখ্যাান করছি। জেলা বরাবর আমরা লিখিত অভিযোগ জানাবো।

তবে বিদ্রোহীদের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে বরমচাল ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি হাজী আনার উদ্দিন জানান, তাদের দাবি অনৈতিক। এছাড়াও বিস্তারিত কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছ থে‌কে জানতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরমচাল ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোক্তাদির এর মোবাইলে একাধিকবার (রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে) কল করেও পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাড. আবেদ রাজার মোবাইলেও একাধিক কল করলে তিনি রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *