ভোক্তা অধিকারের অভিযানে মৌ’বাজারে ১ বছরে ৩৬৯৫ টি প্রতিষ্ঠানে ১৭ লক্ষ টাকা জরিমানা

লাইক দিন ও শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি ::  মৌলভীবাজার জেলায় ২০১৯ সালে ১৬১ টি অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৬শ’ ৯৫ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এর মৌলভীবাজর জেলা কার্যালয়। এর মধ্যে ৪৫৪ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৬ লক্ষ ১৯ হাজার ৬শ’ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

উক্ত অধিদপ্তরে মৌলভীবাজার জেলার সহকারী পরিচালক মো: আল- আমিন এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৪০ হাজার ৭শ’, ফেব্রুয়ারিতে ২ লক্ষ ১২ হাজার ৩শ’, মার্চে ১ লক্ষ ৯ হাজার ৯শ’, এপ্রিলে ১ লক্ষ ২৬ হাজার ৩শ’, মে মাসে ২ লাখ ৮০ হাজার ৩শ’, জুনে ৯৯ হাজার ৫শ’, জুলাইয়ে ৯২ হাজার ৪শ’, আগস্টে ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৫শ’, সেপ্টেম্বরে ১ লক্ষ ৩০ হাজার, অক্টোবরে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৮শ, নভেম্বরে ৮৪ হাজার ৩শ’ এবং ডিসেম্বর মাসে ১ লাখ ২৬ হাজার ৬শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ধ্বংস করা হয় প্রায় ৫ লাখ টাকার ভেজাল পণ্য, খাদ্যদ্রব্য ও অতিরিক্ত ওজনের মিষ্টির প্যাকেট। জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণের অবৈধ কসমেটিকস, মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষুধ, দাড়ি-পাল্লা, মাছের থালা এবং ক্ষতিকর রং ও রাসায়নিক দ্রব্যাদি।

এই ১ বছরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ে ভোক্তা কর্তৃক মোট অভিযোগ দায়ের করা হয় ৯০ টি । এর মধ্যে ৮৩ টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বাকি ৭ টি তদান্তনাধীন। ৮৩ টির মধ্যে ৩৮ টি অভিযোগ প্রমাণ সাপেক্ষে দোষী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ২ লক্ষ ৯৫ হাজার ৮শ’ টাকা জরিমানা করা হয় এবং আইন অনুসারে অভিযোগকারীদেরকে ২৫ শতাংশ হিসাবে ৭৩ হাজার ৯শ’ ৫০ টাকা প্রদান করা হয়। এগুলোর মধ্যে ৩৬ টি অভিযোগ আপোস মিমাংমার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয় এবং ৯ টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

ভোক্তা অধিকার আইন, ২০০৯ অধিকতর প্রচারের লক্ষে দিবস উদযাপনসহ জেলায় ৩ টি সেমিনার এবং উপজেলায় ১২ টি সেমিনারসহ ১৫ টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোক্তা অধিকার এবং আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়নে ২৮ টি গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়।

দৃশ্যমান পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বাজারে মুদির দোকান ও হোটেল-রেস্টুরেন্টে মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা, পানীয়সহ মোড়কজাত বিভিন্ন দ্রব্যে অতিরিক্ত মূল্য আদায় বন্ধ করা, মিষ্টির প্যাকেটসহ বিভিন্ন উপায়ে ওজনে কারচুপি কমিয়ে আনা, ফার্মেসিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধ ও ফিজিসিয়ান সেম্পল বিক্রি কমিয়ে আনা, নির্ধারিত তাপমাত্রায় ঔষধ সংরক্ষণ করা, হোটেল রেস্টুরেন্টে এবং বেকারীতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতামূলক পরিবেশের তুলনামূলক উন্নতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *